বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন

উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে মন্থর প্রবৃদ্ধির আশঙ্কা

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি আগামী দুই বছরে খুব একটা পরিবর্তন হবে না।

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি আগামী দুই বছরে খুব একটা পরিবর্তন হবে না। সদ্য বিদায়ী ২০২৪ সালের মতোই চলতি ও আগামী বছর বৈশ্বিক অর্থনীতি ২ দশমিক ৭ শতাংশ হারে সম্প্রসারণ হবে। তবে এ সময় দীর্ঘমেয়াদে দুর্বল প্রবৃদ্ধির ঘরে আটকে থাকতে পারে উন্নয়নশীল দেশগুলো। খবর আনাদোলু।

উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলো একুশ শতকের প্রথম ২৫ বছর শেষ করবে চলতি বছর। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, এ সময় দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে মন্থর প্রবৃদ্ধি দেখতে পারে তারা। কারণ হিসেবে রয়েছে মহামারী, বাণিজ্যে বাধা ও অন্যান্য অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, যা দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির গতি ধীর করতে পারে এবং দরিদ্রতা কমানোসহ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি করবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনীতি আগামী দুই বছরে স্থিতিশীল অবস্থা দেখবে। কিন্তু সে তুলনায় উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলো উন্নত বিশ্বের আয়ের স্তরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে ধীরগতিতে থাকবে।

উন্নয়নশীল অর্থনীতি আগামী দুই বছরে প্রায় ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। কিন্তু ২০২৫ ও ২০২৬ সালের মহামারীর আগের তুলনায় দুর্বল পারফরম্যান্স দেখা যেতে পারে এবং প্রবৃদ্ধির এ হার দারিদ্র্য দূরীকরণ ও বিস্তৃত উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে যথেষ্ট নয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সত্তরের দশকের পরবর্তী সময়ের তুলনায় একুশ শতকের প্রথম দশকে উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল। এখন এতে উল্লেখযোগ্য বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বাণিজ্য বিধিনিষেধ। বিশ্বব্যাংক বলছে, ২০২৪ সালে নতুন বৈশ্বিক বাণিজ্য বিধিনিষেধ ২০১০-১৯ সালের গড়ের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি হয়েছে। ফলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমেছে, যা ২০০০-এর দশকে ছিল ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। এরপর ২০১০ ও ২০২০-এর দশকে হয়েছে যথাক্রমে ৫ দশমিক ১ ও ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

চীন-ভারত বাদ দিয়ে বিবেচনা করলে ২০১৪ সাল থেকে উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোর মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির গড় উন্নত অর্থনীতির তুলনায় আধা শতাংশীয় পয়েন্ট কম। ফলে ধনী-দরিদ্রের মধ্যে ব্যবধান আগের তুলনায় আরো বেড়েছে।

প্রতিবেদনটি উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিবিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইন্দরমিত গিল বলেন, ‘সামনের ২৫ বছর উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য ২৫ বছরের তুলনায় আরো কঠিন হবে।’

বর্তমানে বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৪৫ শতাংশ হিস্যা উন্নয়নশীল অর্থনীতির দখলে, যা ২০০০ সালে ছিল ২৫ শতাংশ। এ অঞ্চলের পণ্য রফতানির ৪০ শতাংশই ভোক্তা অন্য উন্নয়নশীল অর্থনীতি, যা ২০০০ সালের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি। অর্থাৎ উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হয়ে উঠেছে এবং তাদের মধ্যে অর্থনৈতিক যোগাযোগ অনেক বেড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উন্নয়নশীল অর্থনীতি এখন বৈশ্বিক মূলধন প্রবাহ, রেমিট্যান্স ও অন্য উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য উন্নয়ন সহায়তার গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছে। ২০১৯-২৩ সালের মধ্যে বৈশ্বিক রেমিট্যান্সের ৪০ শতাংশ অর্জন করেছে এসব দেশ, যা এ শতকের প্রথম দশকে ছিল ৩০ শতাংশ।

জিডিপির হিস্যায় বড় অংশ দখল করে থাকায় উন্নয়নশীল অর্থনীতি এখন পারস্পরিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের ওপর বেশি প্রভাব ফেলছে। প্রতিবেদন অনুসারে, চীন, ভারত ও ব্রাজিল এ তিনটি বৃহত্তম উন্নয়নশীল অর্থনীতির জিডিপি প্রবৃদ্ধি এক শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়লে তিন বছরের মধ্যে অন্য উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে প্রায় ২ শতাংশ জিডিপি বাড়তে পারে।

আরও